বাংলা বিষয়ের সমস্ত উত্তর পাওয়া যাবে

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম - প্রশ্নের উত্তর - দশম শ্রেণি


 ১.'বলতে গেলে তাই নিয়ে আমাদের প্রথম লেখালিখি'- শৈশবের কোন বর্ননা লেখক তুলে ধরেন?

উত্তর - শ্রীপান্থ রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' রচনায় তাঁর শৈশবজীবনের লেখালিখির সূচনার এক সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন।

গ্রামজীবনের সাথে যাদের শৈশব যুক্ত, লেখক সমবয়সি সেইসব মানুষ তাঁর এই বর্ণনার সাথে একমত এবং একান্ত হতে পারবেন।ছেলেবেলায় লেখক সরু বাঁশের কঞ্চি কেটে কলম তৈরি করতেন।তিনি কলমের মাথাটা একটু চিরে দিতেন,তাহলে কালির ধীরে ধীরে পড়তো।লেখার পাতা ছিল কলা পাতা।কলা পাতা কেটে তাতে হোমটাস্ক করে মাস্টারমশাইকে দেখিয়ে তা পুকুরে ফেলে দিতেন।লেখকরা নিজেরাই কালি তৈরি করতেন বড়দের সাহায্য নিয়ে।কাঠের উনুনে কড়াই বসিয়ে তার তলায় জমে যাওয়া কালি তাঁরা লাউ পাতা দিয়ে ঘষে তুলে জমে গুলে নিতেন। কখনো তার সাথে হরিতকীও মেশানো হত।ওই জলের সাথে কখনো আতপ চাল ভেজে পুড়িয়ে তা বেটে মেশানো হত।তারপর ওই জলে একটা গরম লোহা ঠেকিয়ে নিয়ে ন্যাকড়া ছেঁকে বোতলে কালি ভরা হত।এভাবেই লেখকের শৈশবজীবনে 'লেখালিখি'-র সূচনা হয়।


২.'কথায় বলে--- কালি কলম মন, লেখে তিন জন '-উদ্ধৃত  অংশটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর। 

উত্তর - 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম ' প্রবন্ধে শ্রীপান্থ অতি প্রচলিত এই প্রবাদটি উল্লেখ করেছেন। হারিয়ে যাওয়া কালি কলম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লেখক এর এমন মনে হয়েছে। 

মানুষ তার মনের ভাবনা কলমের সাহায্যে কাগজে লেখে। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ তার মনের কথাকে ভবিষ্যতের মানুষের জন্য রেখে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লেখার সামগ্রী ব্যবহার করে আসছে। আর এই পথ ধরে কালী আর কলম এসেছে আমাদের সভ্য জগতে। মানুষ তার আবেগ কলমের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে। কলম হলো তুলি, কালই হল রং এবং মন হল শিল্পী। এই তিনটির মিলনে অমৃত ভাবনা সৃষ্টি হয় 

এভাবেই বহু বই রচিত হয়েছে। হাতে লেখার মাহাত্ম্যকে তুলে ধরতেই লেখক এমন মন্তব্য করেছেন। 


৩. 'আমরা তৈরি করতাম নিজেরাই ''--লেখকরা কিভাবে কালি তৈরি করতেন তা প্রবন্ধ অনুযায়ী লেখো? 

উত্তর - শ্রীপান্থ রচিত 'হারিয়ে যাওয়া কালি কলম' রচনায় উপরিউক্ত লাইনটি ব্যবহার করা হয়েছে। লেখক তার ছেলেবেলায় কালী তৈরি নিয়ে প্রচলিত ছড়ার কথা বলে গেছেন। এই ছাড়ায় তিল,ত্রিফলা, শিমুল গাছের ছাল, ছাগলের দুধ ইত্যাদি উপকরণের কথা আছে।এতগুলি উপকরণ জোগাড় করে কালি তৈরি করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। তাই লেখক অন্য সহজ পথ অবলম্বন করেন। 

লেখকদের বাড়িতে রান্না হত কাঠের আগুনে। তাই কড়াইয়ের তলায় প্রচুর কালি জমত।লাউ পাতা দিয়ে তা ঘষে তুলে, পাথরের বাটিতে জলে গুলে রাখা হত।যারা এই কাজে ওস্তাদ ছিল তারা কালো জলে হরিতকী ঘসতো।আবার কখনো কখনো আতপ চাল ভেঙে পুড়িয়ে তা বেটে মিশানো হত।এই সমস্ত কিছু ভালো করে মিশিয়ে একটা খুন্তির গরাদ্দিক পুড়িয়ে লাল করে জলে স্পর্শ করালে তার টগবগ করে ফুটতো। তারপর ন্যাকড়ায় থেকে মাটির দোয়াতে ভরে নিলেই তৈরি হয়ে যেত কালি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.