বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো- প্রশ্ন উওর - একাদশ শ্রেণি
বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো
— গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ
M.C.Q.
1.’বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’ গল্পটির রচয়িতা হলেন— গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ।
2. ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’ গল্পটির অনুবাদক হলেন— মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
3. পেলাইওরা প্রচুর কাঁকড়া মেরেছিল বর্ষার— তৃতীয় দিনে।
4. ‘বৃষ্টির তৃতীয় দিনে ওরা বাড়ির ভিতরে এতই কাঁকড়া মেরেছিল— বৃষ্টির প্রাবল্যে কাঁকড়া ভরে গিয়েছিল বলে।
5. মরা কাঁকড়াগুলোকে পেলাইও সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল কারণ— ওর ধারণা কাঁকড়ার পচা গন্ধে ওর নবজাত শিশুর জ্বর হয়েছিল।
6. পেলাইওর নবজাত শিশুটি কষ্ট পেয়েছে প্রবল— জ্বরে।
7. কোন দিন থেকে সারা জগৎ বিষন্ন হয়ে আছে? Ans- মঙ্গলবার থেকে।
8. “মঙ্গলবার থেকেই সারা জগৎ কেমন বিষণ্ণ হয়ে আছে” কারণ— তিন দিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল তাই।
9. ‘সমুদ্র আর আকাশ হয়ে উঠেছে একটাই ছাই-ধূসর বস্তু’ কারণ— পরপর তিনদিন একনাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছিল।
10. বেলাভূমির বালি দেখতে হয়েছিল যেন— কাদা আর পচা খোলকমাছগুলোর এক ভাপে সেদ্ধ-হওয়া দগদগে স্তূপ।
11. দুপুরবেলায় আলো দুর্বল হয়ে আসায় পেলাইওর কী অসুবিধা হয়েছিল?
Ans- উঠোনের পিছনে কি ছটফট করছে তা দেখা।
12. কে কখন দেবদূতকে প্রথম দেখল? Ans- দুপুরবেলা পেলাইও দেখেছিল।
13. ‘তাকে খুব কাছে গিয়ে তবেই দেখতে হয়েছিল যে এক বুড়ো,’কারণ— বৃষ্টির জন্য দুপুরবেলাতেই আলো দুর্বল ছিল।
14. ‘কিছুতেই উঠতে পারছে না, তার বিশাল দুই ডানায় কেবলই বাধা পেয়ে যাচ্ছে’—কারণ— বুড়োটি কাদার মধ্যে মুখ গুঁজে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিল তাই উঠতে পারছিল না।
15. পেলাইওর স্ত্রীর নাম— এলিসেন্দা।
16. পেলাইও যখন এলিসেন্দার কাছে ছুটে গেল তখন এলিসেন্দা— ছেলের মাথায় জলপট্টি দিচ্ছিল।
17. “পড়ে থাকা শরীরটার দিকে তাকিয়ে তারা কেমন হতভম্ব হয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল”—কারণ— শরীরটা ছিল বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়োর।
18. বুড়োর পরনে ছিল— ন্যাকড়াকুড়ুনির পোশাক।
19.বৃদ্ধ লোকটির অবস্থা কেমন ছিল? Ans- ঝোড়ো কাকের প্র-প্রপিতামহের করুণ দশার মতো।
20. ‘পেলাইও আর এলিসেন্দা খানিক বাদেই তাদের প্রথম চমকটা জয় করে নিলে’,— কারণ— অদ্ভুত এই প্রাণীটিকে তাদের চেনা ঠেকছিল।
21. পেলাইও আর এলিসেন্দা বুড়োটির সম্বন্ধে কী ভেবেছিল?
Ans- ভিনদেশি জাহাজের নিঃসঙ্গ ভরাডুবি নাবিক।
22. পেলাইও আর এলিসেন্দা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোল যে থুরথুরে বুড়ো কোনো ভিনদেশি জাহাজের নিঃসঙ্গ ভরাডুবি নাবিক, কারণ— বুড়ো খালাশিদের মতো গলা ফাটিয়ে দুর্বোধ্য ভাষায় কথা বলেছিল।
23. ওরা কীভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোল যে থুরথুরে বুড়ো মানুষটি কোনো নিঃসঙ্গ নাবিক?
Ans- তার খালাশিদের মতো রিনরিনে গলা শুনে।
24. ‘এ-যে এক দেবদূত’ কথাটি বলেছিলেন— প্রতিবেশী এক মহিলা।
25. “এ-যে এক দেবদূত” পড়োশিনি তাদের বললে”—কারণ— পড়োশিনি জীবনমৃত্যুর সব গলিঘুঁজিরই হদিশ রাখে।
26. প্রতিবেশিনীর মতে থুরথুরে বুড়োটি এসেছিল— বাচ্চা চুরি করতে।
27. ওদের পড়োশিনির মতে বুড়ো ‘দেবদূত’ ওদের শিশুটিকে নিয়ে যেতে পারেনি, কারণ— সে বুড়োহাবড়া হওয়ায় বৃষ্টির তোড়ে নাজেহাল হয়ে গিয়েছিল।
28. পেলাইওরা কেন বৃদ্ধ লোকটিকে মুগুর দিয়ে মারেনি?
Ans- স্বর্গীয় ষড়যন্ত্রের পালিয়ে বাঁচা নিদর্শনরূপে সে ছিল দেবদূত।
29. বৃদ্ধ ডানাওয়ালা মানুষটিকে পেলাইও বন্দি করে রাখল— মুরগির খাঁচায়।
30. ‘তখন ওরা একটু দরাজদিল হয়ে উঠল,’কারণ— ওদের বাচ্চার জ্বর ভালো হয়ে গিয়েছিল।
31. পরদিন ওরা ঠিক করল যে দেবদূতকে একটা ভেলায় খাবার আর জল দিয়ে বারদরিয়ায় ছেড়ে দেবে, কারণ— তাদের সন্তানের জ্বর সেরে যাওয়ায় তারা খুশি হয়েছিল।
32. বুড়োকে ভেলায় করে বারদরিয়ায় ছেড়ে দিয়ে আসার কথা ভেবেও কেন তা করতে পারল না পেলাইও ও এলিসেন্দা— পুরো পাড়া মুরগির খাঁচার সামনে জড়ো হয়ে দেবদূতকে নিয়ে তামাশা করছিল।
33. ঊষার প্রথম আলো ফোটামাত্র পেলাইও এবং এলিসেন্দা কী দেখতে পায়?
Ans- মুরগির খাঁচার সামনে পাড়ার সব লোক এসে হাজির।
34. স্থানীয় পাদরি সাহেবের নাম হল— গোনসাগা।
35. পাদ্রে গোনসাগা উপস্থিত হয়েছিল ক-টার আগেই? Ans- সকাল সাতটা।
36. ‘সকাল সাতটার আগেই পাদ্রে গোনসাগা এসে হাজির’ কারণ— পেলাইওদের বাড়িতে ‘দেবদূত’ এসেছে এই অদ্ভুত খবর পেয়ে শঙ্কিত হয়ে ছুটে এসেছিলেন।
37. দর্শকরা বন্দির ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ধরনের জল্পনাকল্পনা করছিল?
Ans- বুড়োকে সারা জগতের পুরপিতা নাম দেওয়া উচিত।
38. যারা সহজসরল গোছের মানুষ তারা এই অচেনা মানুষটিকে বানাতে চেয়েছিলেন— পুরপিতা।
39. রুষ্ট প্রকৃতির মানুষের ধারণা বৃদ্ধটিকে যে পদে নিয়োগ করলে যুদ্ধে জয় হবেই— সেনাপতি।
40. যাজক হওয়ার আগে গোনসাগা ছিলেন— কাঠুরে।
41. বুড়োকে কী খেতে দেওয়া হয়েছিল? Ans- ফলের খোসা ও ছোটো হাজারির উচ্ছিষ্ট।
42. পাদ্রে গোনসাগা খাঁচার মধ্যে ঢুকে ডানাওয়ালা বৃদ্ধ লোকটিকে যে ভাষায় সুপ্রভাত জানালেন— লাতিন।
43. পাদ্রে গোনসাগার লাতিন ভাষায় জানানো সুপ্রভাতের উত্তরে বুড়ো— প্রত্নপ্রাচীন চোখ তুলে কী একটা ভাষায় গুন গুন করে বলে ওঠে।
44. পাদ্রে গোনসাগা সন্দেহ করলেন যে বুড়ো আসলে এক জোচ্চোর, ফেরেব্বাজ, কারণ— বুড়ো ঈশ্বরের ভাষা অর্থাৎ লাতিন বোঝে না।
45. পাদ্রে গোনসাগা কখন বুড়োকে সন্দেহ করতে শুরু করলেন?
Ans- যখন তিনি বুঝলেন যে বুড়ো ঈশ্বরের ভাষাই বোঝে না।
46. পাদ্রে গোনসাগা সকলকে কী বলে হুঁশিয়ার করে দিলেন?
Ans- রোমান ক্যাথলিকদের হুল্লোড় উৎসবে এসে কৌশলে আচমকা ল্যাং মেরে দেওয়ার অভ্যাস আছে।
47. পাদ্রে গোনসাগা কী বিষয়ে কৌতুহলীদের সাবধান করেছেন?
Ans- সাদাসিধে লোক হওয়ার ঝুঁকি কতটা।
48. বৃদ্ধ অজ্ঞাত লোকটিকে দেবদূত ভাবার কারণ হল— বৃদ্ধটির বড়ো বড়ো দুটি ডানা আছে।
49. পাদ্রে গোনসাগা কাকে, কেন চিঠি লিখবেন বলে জানালেন?
Ans- বিশপকে, বুড়ো দেবদূত কি না সেই বিষয়ে সন্দেহ নিরসনের জন্য।
50. বন্দি দেবদূতের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে— পেলাইওদের বাড়ির সামনে হাটবাজারে সমস্ত মানুষ এসে ভিড় করেছিল।
51. ভিড়কে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল— সঙিনসমেত সেনাবাহিনীকে।
52. ‘শেষটায় তার মাথায় খেলে গেল’— এলিসেন্দার মাথায় কী খেলে গেল?
Ans- উঠোনের চারপাশে বেড়া দিয়ে সকলের কাছ থেকে দর্শনি আদায় করা যাবে।
53. দেবদূত দেখার জন্য এলিসেন্দা দর্শনি হিসেবে অর্থ ধার্য করে— পাঁচ সেন্ট।
54. ‘উঠোনের চারপাশে বেড়া দিয়ে সকলের কাছ থেকেই তো দর্শনী বাবদ পাঁচ সেন্ট করে চাওয়া যায়’—কারণ— বন্দি দেবদূতকে দেখতে প্রচুর ভিড় হচ্ছিল, তাদের সকলের কাছ থেকে দর্শনি নিয়ে সংসারের অবস্থা ফেরাতে।
55. সার্কাস দলের দড়বাজিকরের ডানাগুলোকে দেখাচ্ছিল— নক্ষত্র বাদুড়ের মতো।
56. বৃদ্ধকে দেখতে আসা পোর্তুগিজ লোকটির না ঘুমানোর কারণ— তারাদের কোলাহল।
57. ঘুমে হাঁটা লোকটির প্রধান সমস্যা ছিল— জেগে থাকা অবস্থায় যাবতীয় করা কাজ রাত্তিরে ঘুমের ঘোরে হেঁটে গুবলেট করে দিত।
58. ‘পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল যে জাহাজডুবির বিশৃঙ্খলা, তার মধ্যে পেলাইও আর এলিসেন্দা অবশ্য তাদের ক্লান্তিতেই সুখী’,—কারণ— ভিড় করে আসা জনতার প্রণামীতে তাদের ঘর ঠেসে গিয়েছিল।
59. “এই দেবদূত ছিল একমাত্র যে তার নিজের এই হুলস্থুল নাট্যে কোনোই ভূমিকা নেয়নি”— কারণ— তার এই ধার-করা নীড়ে কীভাবে একটু আরাম পাবে সেই চেষ্টা করছিল।
60. ‘গোড়ায় তাকে ওরা ন্যাপথালিন খাওয়াবার চেষ্টা করেছিল,’ কারণ— পড়োশিনি বলেছিল ন্যাপথলিন দেবদূতের খাদ্য হিসেবে বিধানবিদিত।
61. জ্ঞানী মহিলার মতে দেবদূতের প্রিয় খাদ্য— ন্যাপথলিন।
62. ডানাওয়ালা বুড়ো লোকটা খায়— বেগুনভর্তা।
63. থুরথুরে বুড়োর একমাত্র অতিপ্রাকৃত শক্তি হল— ধৈর্য।
64. ‘মুরগিরা তাকে ঠোকরাত,’—কারণ— তার ডানায় যেসব নাক্ষত্র পরভৃৎ গজিয়েছিল তার খোঁজে।
65. পঙ্গুরা ছিঁড়ে নিত— পালক।
66. ‘পঙ্গুরা ছিঁড়ে নিত তার পালক’—কারন— তাদের বিকল ঠুঁটো অঙ্গগুলোয় ছোঁয়ানোর জন্য।
67. যাদের প্রাণে অনেক দয়াধর্ম ছিল তারা যা ছুঁড়ে দিত— ঢিল।
68. বুড়োটির দিকে ঢিল ছোঁড়া হত— যাতে সে উঠে দাঁড়ায় এবং দাঁড়ালে তাকে কেমন দেখায় তা দেখার জন্য।
69. ‘তারা তার পাশটা পুড়িয়ে ছিল তপ্ত লোহায়’,—কারণ— সে ঝিম মেরে নিশ্চল হয়ে পড়েছিল, তারা ভেবেছিল সে মরে গিয়েছে।
70. ‘আঁৎকে জেগে উঠেছিল সে তখন’,—তার আঁৎকে জেগে ওঠার কারণ— লোকেরা তার পাশটা পুড়িয়ে দিয়েছিল তপ্ত লোহায়।
71. অনেকে ভেবেছিল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো ডানা ঝাপটেছিল— জ্বালায়, ব্যথায়।
72. ‘বরং কোনো মহাপ্লাবনের পূর্বমুহূর্তের থমথম ছমছমে ঘুম’ কারণ— বেশিরভাগ লোক বুঝেছিল তার নিষ্ক্রিয়তা বিশ্রামের নয়, আতঙ্কের।
73. ‘পাদ্রে গোনসাগা ভিড়ের ছ্যাবলামিটা ঠেকিয়ে রেখেছিলেন’ কারণ— দেবদূত সম্পর্কে রোম থেকে সর্বাধিনায়কের চূড়ান্ত রায় কী আসে তার অপেক্ষা করছিলেন।
74. রোম থেকে আসা চিঠিতে বলা হয়েছিল থুরথুরে বুড়োর ভাষা যে ভাষার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত— সিরিয়ার প্রাচীন ভাষা।
75. রোম থেকে আসা চিঠিতে বলা হয়েছিল থুরথুরে বুড়োর দেশ হল— নরওয়ে।
76. কোন ঘটনা পাদ্রে গোনসাগার সমস্ত বিপত্তিতে ইতি টানে?
Ans- একটি মেয়ের ভ্রাম্যমান প্রদর্শনী।
77. ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর মেয়েটি মাকড়সা হল কীভাবে?
Ans- বাবা-মার কথার অবাধ্য হয়ে।
78. ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’ গল্পে বর্ণিত মেয়েটি হল— মস্ত ভেড়ার মতো বড়ো।
79. ‘যা ছিল সবচেয়ে হৃদয়-বিদারক,’— মেয়েটির অকৃত্রিম দুঃখী করুন গলা, যে গলায় সে তার দুর্ভাগ্যের সব খুঁটিনাটি বর্ণনা করত।
80. মেয়েটি কোথায় যাবে বলে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল?
Ans- নাচের আসরে যাবে বলে।
81. মেয়েটিকে আজব মাকড়সায় বদলে দিয়েছিল— জ্বলন্ত গন্ধকের এক বিদ্যুৎশিখা।
82. মেয়েটি মাকড়সায় পরিণত হলে তার উদ্দেশে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল— মাংসের বড়া।
83. পঙ্গু বেচারি যা জিতে যাচ্ছিল তা হল— লটারি।
84. কুষ্ঠরোগীর ঘা থেকে গজিয়েছিল— সূর্যমুখী ফুল।
85. ‘দেবদূতের মানসম্ভ্রম খ্যাতি ধুলোয় লুটিয়ে পড়েছিল’ কারণ— শহরে পৌঁছেছিল দেবদূতের চেয়ে কম দর্শনি দিয়ে দেখতে পাওয়া মাকড়সা-কন্যা।
86. ‘এইভাবেই পাদ্রে গোনসাগা তাঁর অনিদ্রা রোগ থেকে চিরকালের মতো রেহাই পেয়ে গেলেন...’—কারণ— মাকড়সা কন্যার আবির্ভাবে ‘দেবদূত’কে নিয়ে লোকজনের আগ্রহ একেবারে চলে গেলে পাদ্রে গোনসাগার দুশ্চিন্তা দূর হল।
87. বাড়ির মালিকরা বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়োকে দেখিয়ে যে অর্থ পেয়েছিল তা দিয়ে বানিয়েছিল— দোতলা বাড়ি।
88. ‘আর জানলায় ছিল লোহার গরাদ’—কারণ— হঠাৎ কোনো পথহারা দেবদূত যাতে ঢুকতে না পারে।
89. শহরের কাছেই পেলাইও বানিয়ে নিয়েছিল— খরগোশ পালনের ঘিঞ্জি গোলকধাঁধা।
90. ‘চিরকালের মতো ইস্তফা দিলেন তারা সাধ্যপালের কাজে’, কারণ— দেবদূত আসায় তারা অনেক অর্থ উপার্জন করেছিল।
91. এলিসেন্দা দর্শনিবাবদ প্রাপ্ত অর্থ থেকে কিনেছিল— কতকগুলি উঁচু ক্ষুরওয়ালা ঢাকা জুতো এবং রামধনুরঙা রেশমি কাপড়ের অনেক পোশাক।
92. পেলাইও ও তার পত্নী বড়লোক হওয়ার পর যেদিকে দৃষ্টি দেয়নি তা হল— মুরগির খাঁচা।
93. পেলাইও ও এলিসেন্দা সম্ভবত কেন রাসায়নিক দিয়ে মুরগির খাঁচাটিকে দিয়েছিল? Ans- গু-গোবরের স্তূপের দুর্গন্ধ তাড়াতে।
94. পেলাইও ও তার পত্নী সাবধানে ছিল যাতে বাচ্চাটি— মুরগির খাঁচাটার কাছে না যায়।
95. দেবদূতের এবং এলিসেন্দা-পেলাইওর শিশুর যে রোগ হয়েছিল তা হল— জলবসন্ত।
96. কে দেবদূতের হৃৎপিন্ডের ধুকপুক শোনার লোভ সামলাতে পারেনি?
Ans- পেলাইও-এলিসেন্দার শিশুর জলবসন্তের সময় যে ডাক্তার এসেছিল।
97. ডাক্তার অবাক হয়েছিল এই কারণেই— অন্য সব মানুষদের ডানা নেই কেন।
98. পেলাইও আর এলিসেন্দার বাচ্চা কবে স্কুলে যাওয়া শুরু করে?
Ans- রোদে-বৃষ্টিতে মুরগির খাঁচার সম্পূর্ণ ধ্বংসের কিছুকাল পরে।
99. ‘দেবদূত এখন এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায়...’—কারণ— রোদে-বৃষ্টিতে মুরগির খাঁচা পুরো ভেঙে পড়েছিল।
100. এলিসেন্দা ডুকরে গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে বলতে লাগল— দেবদূতে দেবদূতে থৈ-থৈ করা কোনো নরকে বাস করা জঘন্য কান্ড।
101. এলিসেন্দা কেন বলেছিল ‘দেবদূতে থই থই করা কোনো নরকে বাস করা কী যে জঘন্য কান্ড!’— কারণ দেবদূত যখন তখন বাড়ির যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াত।
102. ‘সবসময় সে জিনিসপত্তরে ধাক্কা খায়’—কারণ— সে ভালো দেখতে পায় না, তার চোখ ঘোলাটে হয়ে গিয়েছিল।
103. পেলাইও দেবদূতকে ছুঁড়ে দিয়েছিল— একটি কম্বল।
104. পেলাইও দেবদূতকে শুতে দিয়েছিল— একটা আটচালার নীচে।
105. পেলাইওরা লক্ষ করে যে রোজ রাত্রিতে দেবদূতের— জ্বর আসে।
106. দেবদূতের ডানায় মস্ত কতকগুলি পালক গজিয়েছিল— ডিসেম্বরের গোড়ায়।
107. পেলাইও এবং এলিসেন্দার কখন মনে হল যে দেবদূত ক্রমশ সেরে উঠছে?
Ans- ডিসেম্বরের গোড়ার দিককার প্রথম রোদ্দুরে।
108. দেবদূতের নতুন গজিয়ে ওঠা পালকগুলিকে দেখে যেন মনে হয় সেগুলি— কাকতাড়ুয়ার পালক।
109. একদিন সকালে এলিসেন্দা যা কাটছিল— পেঁয়াজকলির গুচ্ছ।
110. একদিন সকালে এলিসেন্দার পেঁয়াজকলির গুচ্ছ কাটার সময় মনে হল— দূর বারদরিয়ার এক ঝলক হাওয়া এসে ঢুকছে রান্নাঘরে।
111. “একদিন সকালে এলিসেন্দা যখন পেঁয়াজকলির গুচ্ছ কাটছে, তখন আচমকা মনে হল হঠাৎ যেন দূর বারদরিয়ার এক ঝলক হাওয়া এসে ঢুকেছে রান্নাঘরে”—কারণ— এলিসেন্দা দেখল দেবদূত তার ডানা ছড়িয়ে ওড়ার চেষ্টা করছে।
112. দেবদূতের নখগুলি খাঁজ কেটে দিচ্ছিল— সবজিবাগানের মধ্যে।
113. ‘এলিসেন্দা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললে’—কারণ— দেবদূত তার ডানা মেলে প্রথম আকাশে উড়ে গেল।
114. দেবদূত উড়ে যাচ্ছিল যার মত ঝুঁকিতে ভরা ডানা ঝাপটানি নিয়ে— জরাগ্রস্ত শকুনের মতো।
115. দেবদূতের উড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে এলিসেন্দার অনুভূতি কেমন হয়?
Ans- এলিসেন্দা স্বস্তি বোধ করে, উদাসও হয়।
116. দেবদূতকে যখন আর দেখা যাচ্ছিল না তখন তাকে মনে হচ্ছিল— সমুদ্রের দিকচক্রবালে কাল্পনিক ফুটকির মতো।
S.A.Q.
1. ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’ গল্পটি কোন মূল গল্পের অনুবাদ?
Ans- দক্ষিণ আমেরিকার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাহিত্যিক গাবরিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘এ ভেরি ওল্ড ম্যান উইথ ইনরমাস উইংস’ নামক মূল গল্পের অনুবাদ ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’।
2. ‘বৃষ্টির তৃতীয় দিনে ওরা বাড়ির ভেতরে এতই কাঁকড়া মেরেছিল’— ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
Ans- ‘ওরা' বলতে আলোচ্য গল্পের মুখ্য চরিত্র গৃহস্থ পেলাইও ও তার স্ত্রী এলিসেন্দাকে বোঝানো হয়েছে।
3. মরা কাঁকড়াগুলোকে পেলাইও সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল কেন?
Ans- একঘেয়ে বৃষ্টিতে মরা কাঁকড়াগুলো পচে বিকট গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। পেলাইওর ধারণা ছিল ওই পচা গন্ধে তার নবজাত শিশু অসুস্থ হয়েছে, তাই মরা কাঁকড়াগুলোকে ফেলে দিয়েছিল।
4. সারা জগৎ কবে থেকে বিষণ্ণ হয়ে আছে?
Ans- কালো মেঘ ও প্রবল বর্ষণ মঙ্গলবার থেকে রৌদ্রকে নিঃশেষিত করেছিল, তাই সেদিন থেকেই সারা জগৎ বিষণ্ণ হয়ে আছে।
5. সারা জগতে কীভাবে বিষণ্ণতার প্রকাশ ঘটেছে?
Ans- মেঘের ঘনঘটায় আকাশ এবং সমুদ্র তাদের নীলিমা হারিয়ে ধূসর বর্ণ ধারণ করেছিল, সৈকতের বালি প্রবল বৃষ্টিতে কাদায় রূপান্তরিত হয়ে সারা জগতের বিষণ্ণতা প্রকাশ করেছিল।
6. কাঁকড়াগুলো ফেলে ফেরার পথে পেলাইও কী দেখেছিল?
Ans- মরা কাঁকড়াগুলো ফেলে ফেরার পথে পেলাইও এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখেছিল। স্পষ্টভাবে দেখার জন্য উঠোনের পেছনে গিয়ে সে এক থুরথুরে বুড়োকে কাদায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকতে দেখেছিল।
7. ‘তার বিশাল দুই ডানায় কেবলই বাধা পেয়ে যাচ্ছে’—কে কেবলই দুই ডানায় বাধা পাচ্ছিল?
Ans- পেলাইওর প্রায়ান্ধকার উঠোনের পিছনের কোনে কাদায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকা এক থুরথুরে বুড়ো কেবলই নিজের দুই বিশাল ডানায় বাধা পাচ্ছিল।
8. ‘সেই দুঃস্বপ্ন দেখে আঁৎকে ওঠে’—কোন দুঃস্বপ্নের কথা বলা হয়েছে?
Ans- গৃহস্থ পেলাইও দুঃস্বপ্নে বিশাল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োর কাদা থেকে নিজেকে উড়িয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যর্থ প্রয়াস দেখে আঁৎকে উঠেছিল।
9. দুঃস্বপ্ন দেখে পেলাইও কী করেছিল?
Ans- দুঃস্বপ্ন দেখে পেলাইও নবজাত শিশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত স্ত্রী এলিসেন্দার কাছে ছুটে গিয়েছিল এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে উঠোনের পেছনের কোণে বুড়োকে দেখতে গিয়েছিল।
10. বুড়োর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল?
Ans- বুড়োর শারীরিক অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না, মাথায় কয়েকটি মাত্র বিবর্ণ চুল ছিল ও মুখ ছিল প্রায় দন্তশূন্য। সবমিলিয়ে ঝোড়ো কাকের প্র-প্রপিতামহের মতো দুর্দশা ছিল তার।
11. ‘ওরা তার দিকে এতক্ষণ ধরে খুব কাছ থেকে হাঁ করে তাকিয়েছিল’—এখানে ‘ওরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
Ans- ‘ওরা’ বলতে উদ্ধৃতাংশে হতভম্ব গৃহস্থ পেলাইও এবং তার স্ত্রী এলিসেন্দাকে বোঝানো হয়েছে।
12. ‘বরং শেষটায় একে বেশ চেনা-চেনাই ঠেকল’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
Ans- প্রশ্নের প্রদত্ত উক্তিটিতে বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়োর কথা বলা হয়েছে।
13. ‘রিনরিণে গলায় কী এক দুর্বোধ্য বুলিতে জবাব দিলে’—কে দুর্বোধ্য বুলিতে জবাব দিয়েছিল?
Ans- পেলাইও এবং এলিসেন্দার প্রশ্নের উত্তর উঠোনের পেছন কোনে কাদায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকা বিশাল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো ‘দুর্বোধ্য বুলি’-তে জবাব দিয়েছিল।
14. পেলাইও আর এলিসেন্দা কখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোল যে থুরথুরে বুড়ো কোনো ভিনদেশি জাহাজের নিঃসঙ্গ ভরাডুবি নাবিক?
Ans- ভিনদেশি জাহাজের খালাসিরা নিজেদের ভাষায় কথা বললে তা অন্যদেশীয়রা বোঝে না। থুরথুরে বুড়োর ভাষাও অপরিচিত হওয়ার জন্য তা পেলাইও এলিসেন্দার কাছে দুর্বোধ্য মনে হয়।
15. ‘ওরা এক পড়োশিনিকে ডেকে আনলে...’— এই পড়োশিনিকে ডেকে আনার কারণ কী?
Ans- জীবনমৃত্যুর যাবতীয় রহস্য সমাধানে দক্ষ এক পড়োশিনিকে ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োর পরিচয়ের রহস্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে পেলাইও এবং এলিসেন্দা ডেকে এনেছিল।
16. ‘ওদের বোঝাতে দেরি হল না যে ওরা একটা মস্ত ভুল করেছে’—কারা, কী মস্ত ভুল করেছে?
Ans- আলোচ্য অংশে অভিজ্ঞ পড়োশিনি পেলাইও এবং এলিসেন্দাকে বোঝায় যে, ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো আসলে একজন প্রবীণ দেবদূত। তাকে অনাদর করা মস্ত ভুল হয়েছে।
17. ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে দেখে পরশিনি কী বলেছিল?
Ans- অভিজ্ঞ পড়োশিনির ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে দেখে একজন প্রবীণ দেবদূত বলেছিল এবং তার সন্দেহ হয়েছিল অসুস্থ নবজাতককে সে দেবলোকে নিয়ে যেতে এসেছে।
18. পেলাইও এবং এলিসেন্দার পড়োশিনির মতে, বুড় ‘দেবদূত’ ওদের শিশুটিকে নিয়ে যেতে পারেনি কেন?
Ans- পড়োশিনির মতে, ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো অর্থাৎ ‘দেবদূত’ প্রবল বৃষ্টিতে কাহিল হয়ে পড়েছে বলেই নবজাত শিশুটিকে নিয়ে যেতে পারেনি।
19. ‘সারা বিকেল তার ওপর নজর রাখলে’,—কে কোথা থেকে, কার উপর নজর রাখল?
Ans- গৃহকর্তা পেলাইও নিজের বাড়ির রান্নাঘর থেকে অদ্ভুত চেহারার ডানাওয়ালা বুড়োর গতিবিধির উপর নজর রাখল, যদিও থুরথুরে বুড়ো ছিল স্থবির।
20. পেলাইও বুড়োকে নিয়ে কী করল?
Ans- রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে পেলাইও উঠোনের কাদা থেকে ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে তুলে টেনে-হিঁচড়ে তারের জালে ঘেরা মুরগির খাঁচায় বন্ধ করে রাখল।
21. ‘তখনও একটার পর একটা কাঁকড়া মারছে’—কখন, কারা কাঁকড়া মারছিল?
Ans- ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োর উপস্থিতির দিন মাঝরাতে, বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরেও গৃহস্থ দম্পতি পেলাইও এবং এলিসেন্দা কাঁকড়া মারছিল।
22. ‘তার গায়ে আর জ্বর নেই’—কার জ্বর হয়েছিল?
Ans- পেলাইও এবং এলিসেন্দার সন্তান ‘শিশু’টির জ্বর হয়েছিল কিন্তু ডানাওয়ালা বুড়োর উপস্থিতির দিন মাঝরাত্রিরে জ্বর ছেড়ে গিয়েছিল।
23. ‘তখন ওরা একটু দরাজদিল হয়ে উঠল’—কারা, কেন দরাজদিল হয়ে উঠল?
Ans- কয়েকদিন একঘেয়ে বৃষ্টির ফলে পেলাইও এবং এলিসেন্দার নবজাত শিশুটির জ্বর ছিল। যেদিন মাঝরাত্রিরে সন্তানের জ্বর ছেড়ে গেল সেদিন তারা দরাজদিল হয়ে উঠল।
24. পেলাইও এবং এলিসেন্দা কখন ঠিক করেছিল যে, পরদিন ওরা দেবদূতকে একটা ভেলায় খাবার আর জল দিয়ে বারোদরিয়ায় ছেড়ে দেবে?
Ans- যেদিন ডানাওয়ালা বুড়ো ‘দেবদূত’ পেলাইও এবং এলিসেন্দার বাড়িতে উপস্থিত হয় সেদিনই মাঝরাত্রে তাদের নবজাতকের জ্বর সেরে যায়। তাই তারা দেবদূতকে জল ও খাবার দিয়ে বারদরিয়ায় ছেড়ে দিতে চেয়েছিল।
25. পেলাইওরা বুড়োটিকে বারদরিয়ায় ছেড়ে আসার কথা ভেবেছিল কেন?
Ans- পেলাইওরা মনে করেছিল প্রবীণ দেবদূতের উপস্থিতি ও আশীর্বাদে তাদের নবজাতক সুস্থ হয়ে উঠেছে। তাই কৃতজ্ঞ ও উদার হৃদয়ে তারা বুড়োকে বারদরিয়ায় ছাড়তে চেয়েছিল।
26. উষার আলো ফোটামাত্র পেলাইও এবং এলিসেন্দা উঠোনে গিয়ে কী দেখল?
Ans- উষার আলো ফোটার পর পেলাইও এবং এলিসেন্দা অবাক হয়ে দেখে উঠোনে পড়শিদের জমায়েত এবং তারা বুড়ো ‘দেবদূত’কে নিয়ে মজা করছে।
27. ‘বরং যেন সে এক সার্কাসের জন্তু’—এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
Ans- পেলাইওর উঠোনের মুরগির খাঁচায় বন্দি ‘দেবদূত’কে নিয়ে পড়শিরা মজা করতে থাকে এবং ‘সার্কাসের জন্তু’র মতো বুড়োকে ছুঁড়ে ছুঁড়ে খাবার দিতে থাকে। এ দেখে তাদের এমন মনে হয়েছিল।
28. পাদ্রে গোনসাগা কখন এসে হাজির হয়েছিল?
Ans- পেলাইওদের বাড়িতে ‘দেবদূত’-এর আগমনের অদ্ভুত সংবাদে শঙ্কিত হয়ে সকাল সাতটার আগেই পাদ্রে গোনসাগা এসে হাজির হয়েছিল।
29. ‘অদ্ভুত খবর’টি কী ছিল?
Ans- অদ্ভুত খবরটি ছিল যে পেলাইও এবং এলিসেন্দার বাড়ির উঠোনে এক ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো এসেছে।
30. ‘তারা বন্দীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছে’—এখানে ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বোঝানো হয়েছে?
Ans- আলোচ্য অংশে ‘তারা’ বলতে পেলাইও এলিসেন্দার বাড়িতে উপস্থিত কৌতুহলী এবং কৌতুকপ্রিয় পড়শিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
31. ভোরবেলায় আগত দর্শকদের মধ্যে সবচেয়ে সরল লোকটা বুড়ো সম্পর্কে কী ভেবেছিল?
Ans- ভোরবেলায় আগত উৎসুক দর্শকদের মধ্যে উপস্থিত সবচেয়ে সরল লোকটা ‘অদ্ভুতদর্শন বুনো দেবদূত’-এর জন্য ‘সারা জগতের পুরপিতা’ নাম ভেবে ফেলেছিল।
32. অপেক্ষাকৃত কঠিন হৃদয়ের লোকেরা বুড়ো সম্পর্কে কী ভেবেছিল?
Ans- ভোরবেলায় আগত উৎসুক জনতার মধ্যে উপস্থিত কঠিন হৃদয়ের লোকেরা বুড়োকে ‘পাঁচতারা শোভিত সেনাপতি’ হিসেবে দেখতে চেয়েছে, যাতে সহজে সব যুদ্ধে জয়লাভ সম্ভব হয়।
33. পাদ্রে গোনসাগা যাজক হওয়ার আগে কী ছিলেন?
Ans- বর্তমানে পাদ্রে গোনসাগা যাজকবৃত্তিতে নিযুক্ত থাকলেও পূর্বে তিনি ছিলেন একজন শক্তসমর্থ দক্ষ কাঠুরে।
34. ‘আর ওদের বললেন দরজাটা খুলে দিতে’— কারণ কী?
Ans- অদ্ভুতদর্শন বুড়োকে মুরগির খাঁচার মধ্যে এক অতিকায় জরাজীর্ণ মুরগির মতো লাগছিল। আগন্তুকের স্বরূপ পর্যবেক্ষণের জন্য গোনসাগা খাঁচার দরজা খুলে দিতে বলেছিলেন।
35. ‘সে শুধু তার প্রত্নপ্রাচীন চোখ তুলে গুনগুন করে কী একটা বললে তার ভাষায়’—কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে?
Ans- পাদ্রে গোনসাগার উচ্চারিত লাতিন ভাষার ‘সুপ্রভাত’-এর উত্তরে ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো অপরিচিত ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্যের বিপরীতে গুণগুন সুরে অজানা কিছু বলেছিল। এই প্রসঙ্গেই আলোচ্য উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।
36. পাদ্রে গোনসাগা কখন সন্দেহ করেছিল যে, বুড়ো আসলে এক জোচ্চোর, ফেরেব্বাজ?
Ans- ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োর লাতিন ভাষা বোধগম্য হল না দেখে স্বয়ং গোনসাগার মনে হল লোকটা জোচ্চোর, ফেরেব্বাজ।
37. ‘ঈশ্বরের ভাষায় বোঝেনা’—এ কথা জেনে পাদ্রে গোনসাগার বুড়ো সম্পর্কে কী ধারণা হয়েছিল?
Ans- পাদ্রে গোনসাগা মনে করতেন ঈশ্বরের ভাষা ‘লাতিন’। কিন্তু আগন্তুক ‘দেবদূত’ সে ভাষা বুঝলো না দেখে তার ধারণা হয়েছিল বুড়োটি জোচ্চোর, ফেরেব্বাজ।
38. ‘তাকে বড্ড বেশি মানুষ-মানুষ দেখায়’—এটি কার সম্পর্কে, কার উপলব্ধি?
Ans- পাদ্রে গোনসাগা বিশাল ডানাওয়ালা অদ্ভুতদর্শন বুড়োকে খুব কাছ থেকে দেখে উপলব্ধি করলেন যে ‘দেবদূত’কে ‘বড্ড বেশি মানুষ-মানুষ দেখায়’।
39. ‘দেবদূতের সগর্ব মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করা যায় এমন কিছুই তার নেই।‘—পাদ্রে গোনসাগার এমন কথা মনে হয়েছিল কেন?
Ans- ডানাওয়ালা বুড়োর গায়ের গন্ধ অসহনীয়। তার ডানাগুলোর পিছন দিকে বাসা বেঁধেছে নানা পরভৃৎ এবং পার্থিব বাতাস তার ডানার পালকগুলোকে অগোছালো করেছে। তাই তার মধ্যে দেবদূতসুলভ কিছুই নেই।
40. ‘কৌতুহলীদের হুঁশিয়ার করে দিলেন’—কে, কার সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিলেন?
Ans- পাদ্রে গোনসাগা পেলাইওদের উঠোনে উপস্থিত কৌতুহলী জনতাকে অদ্ভুতদর্শন বুড়ো সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দেন।
41. ‘যাতে অসাবধানীদের সে বেকায়দায় ফেলে দিতে পারে, বিপথে নিয়ে যেতে পারে’— ‘সে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
Ans- ‘সে' অর্থাৎ অদ্ভুত চেহারার বুড়ো পেলাইওদের উঠোনে উপস্থিত কৌতুহলী জনতার মধ্যে অসাবধানীদের বিপদে ফেলতে পারে বলে পাদ্রে গোনসাগা সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
42. ‘তৎসত্ত্বেও তিনি কথা দিলেন’—কে, কী কথা দিলেন?
Ans- পেলাইওদের উঠোনে সমাবেত জনতাকে পাদ্রে গোনসাগা ডানাওয়ালা বুড়ো সম্পর্কে উচ্চতম আদালতের সর্বাধিনায়কের চূড়ান্ত রায় আনয়নের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা দেন।
43. পাদ্রে গোনসাগার কথা দেওয়ার পর কী হয়েছিল?
Ans- পাদ্রে গোনসাগা কথা দেওয়ার পর তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অতিসাধারণ ভাবনাহীন মানুষদের মধ্যে আলোড়ন উঠেছিল।
44. ‘নইলে বাড়িটা তারা প্রায় ধসিয়েই দিত’— বাড়িটা ধসিয়ে দিত কেন?
Ans- বিশাল ডানাওয়ালা অদ্ভুত চেহারার বুড়ো ‘দেবদুত’-কে দেখার জন্য জনতার ক্রমবর্ধমান ভিড় পেলাইওদের বাড়িকে প্রায় ধসিয়ে দিচ্ছিল। বাড়িটাকে বাঁচানোর জন্য সশস্ত্র সিপাহী ডাকা হয়েছিল।
45. ‘এলিসেন্দার শিরদাঁড়া যেন দুমড়ে গিয়েছে’,—কারণ কী?
Ans- বন্দি দেবদূতকে দেখার জন্য এলিসেন্দাদের উঠোনে হাটবাজারের মতো ভিড় জড়ো হয়েছিল। সেইসব জঞ্জাল ঝাঁট দিয়ে দিয়ে তার শিরদাঁড়া যেন দুমড়ে গিয়েছিল।
46. ‘শেষটায় তার মাথায় খেলে গেল’—কার মাথায়, কী খেলে গেল?
Ans- ডানাওয়ালা বুড়োকে দেখতে মানুষের জমায়েত দেখে এলিসেন্দার মাথায় দর্শনিবাবদ পাঁচ সেন্ট করে উপার্জনের চিন্তা খেলে গেল।
47. “কৌতুহলীরা এল দূর-দূরান্তর থেকে”—কারণ কী?
Ans- পেলাইও এবং এলিসেন্দার বাড়িতে বিশাল ডানাওয়ালা এক প্রবীণ দেবদূতের আসার খবর পেয়ে তাকে দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে কৌতূহলীরা এসেছিল।
48. “কৌতুহলীরা এল দূর-দূরান্তর থেকে”—ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে দেখতে আসা কৌতূহলীদের দলে ছিল এমন দুজনের পরিচয় দাও।
Ans- ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে দেখতে আসা কৌতুহলী মানুষদের মধ্যে বিশেষ দুজন হল একজন নিদ্রাহীন পোর্তুগিজ, এবং অপর একজন ঘুমে হাঁটা লোক যে দিনের জাগ্রত অবস্থায় কৃত কাজ রাত্রে ঘুমের ঘোরে গুবলেট করে দেয়।
49. ‘কারণ তার ডানাগুলো মোটেই কোনো দেবদূতের মতো ছিল না।‘—কার কথা বলা হয়েছে? ডানাগুলো কার মতো ছিল?
Ans- ডানাওয়ালা বুড়োকে দেখতে ভিড় জমছে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান সার্কাস দল এসেছিল, তার উড়ন্ত দড়বাজিকরের ডানার কথা বলা হয়েছে।
• তার ডানাগুলো ছিল কোনো নাক্ষত্র বাদুড়ের মতো।
50. “জগতের সবচেয়ে দুর্ভাগা ও অশক্তরা এল’—তারা কার কাছে, কেন এল?
Ans- দুর্বল দুর্ভাগারা পেলাইওদের বাড়িতে বন্দি দেবদূতের আশীর্বাদ লাভ করে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার আশায় এসেছিল।
51. ‘পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিচ্ছিল যে জাহাজ ডুবির বিশৃঙ্খলা, তার মধ্যে পেলাইও আর এলিসেন্দা অবশ্য তাদের ক্লান্তিতেই সুখী’—এর কারণ কী?
Ans- ডানাওয়ালা বুড়ো ‘দেবদূত’-কে দেখতে জনতার ভিড়ের বিশৃঙ্খলাও পেলাইও এবং এলিসেন্দাকে বিচলিত করেনি কারণ জমা হওয়া দর্শনির পরিমাণে তারা সুখী হয়েছিল।
52. ‘তা এমনকি দিগন্তও পেরিয়ে কোথায় চলে গিয়েছে’—এখানে ‘তা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
Ans- প্রশ্নে প্রদত্ত উদ্ধৃতিটিতে ‘তা’ বলতে বোঝানো হয়েছে পেলাইও এবং এলিসেন্দার বাড়িতে ঢোকার জন্য অপেক্ষারত তীর্থযাত্রীর সারিকে।
53. ‘তার নিজের এই হুলস্থুল নাট্যে কোনোই ভূমিকা নেয়নি’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
Ans- বিশাল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ মাত্রা ছাড়ালেও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে বুড়োর কোনো ভূমিকা প্রত্যক্ষ করা যায়নি।
54. ‘উত্তাপে তার প্রায় মাথা খারাপ হবার জোগাড়’—এখানে কোন উত্তাপের কথা বলা হয়েছে?
Ans- ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োকে দেবদূত মনে করে তার খাঁচায় সর্বদা তেলের বাতি বা মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছিল, সেই নারকীয় উত্তাপে বুড়োর মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়।
55. কে দেবদূতকে ন্যাপথলিন খাওয়ানোর বিধান দিয়েছিল?
Ans- পেলাইও এবং এলিসেন্দার সর্বজ্ঞ পড়োশিনি নিজের অগাধ জ্ঞানের পরিচয় দিতে দেবদূতকে ন্যাপথলিন খাওয়ানোর বিধান দিয়েছিল।
56. ‘কিন্তু সেও-সব ফিরিয়ে দিয়েছে’— কে, কী ফিরিয়ে দিয়েছে?
Ans- ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো অর্থাৎ ‘দেবদূত’ পরমজ্ঞানী পড়োশিনির বিধান অনুযায়ী দেওয়া ন্যাপথলিন এবং পাপীদের দেওয়া মূল্যবান ভোজ্যবস্তু উভয়ই ফিরিয়ে দিয়েছিল।
57. দেবদূতের একমাত্র খাদ্য কী?
Ans- মূল্যবান ভোগ্যবস্তু বা ন্যাপথলিন নয়, দেবদূতের একমাত্র খাদ্য ছিল বেগুনভর্তা।
58. দেবদূতের ‘একমাত্র অতিপ্রাকৃত শক্তি’ কী ছিল?
Ans- থুরথুরে বুড়ো ‘দেবদূত’ এর মধ্যে কোনো অলৌকিকত্ব পরিলক্ষিত না হলেও অপরিসীম ধৈর্য ছিল তার অতিপ্রাকৃত শক্তির নাজির।
59. দেবদূতের ধৈর্যকে ‘অতিপ্রাকৃত’ মনে হওয়ার কারণ কী?
Ans- পরভৃৎলোভী মুরগিদের ঠোকরানো, পঙ্গুদের পালক ছিঁড়ে নেওয়া এবং অতিরিক্ত কৌতূহলী মানুষজনের ছোঁড়া ঢিলেও বুড়ো দেবদূতের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটত না। এই কারণে তার ধৈর্যকে অতিপ্রাকৃত মনে করা হয়েছে।
60. ‘তখনও সে শান্তই থাকত’— ‘তখনও’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
Ans- বুড়ো দেবদূত উঠে দাঁড়ালে কেমন লাগবে তা দেখার জন্য দয়ালু হিসেবে পরিচিত মানুষজন যখন ঢিল ছুঁড়ত তখনও বুড়ো শান্ত থাকত।
61. “আঁৎকে জেগে উঠেছিল সে তখন, তার ওই রুদ্ধ দুর্বোধ্য অচেনা ভাষায় চেঁচিয়ে প্রলাপ বকেছিল, চোখ ফেটে জল বেরিয়ে এসেছিল তার...”— কে, কখন এমন আচরণ করেছিল?
Ans- ‘দেবদূত’ মরে গিয়েছে মনে করে নিষ্ঠুর মানুষ যখন তাকে তপ্ত লোহার ছ্যাঁকা দিয়েছিল, সেইসময় যন্ত্রণাদগ্ধ হয়ে ডানাওয়ালা বুড়ো এমন আচরণ করেছিল।
62. ‘আর সে তার ডানা ঝাপটেছিল বার দুই’—দেবদূতের এই ডানা ঝাপটানো আনন্দের না আতঙ্কের ছিল?
Ans- তপ্ত লোহার ছ্যাঁকা খেয়ে যন্ত্রণাদগ্ধ বুড়ো দেবদূত ভয়ানক জ্বালায় ডানা ঝাপটেছিল।
63. ‘যদিও অনেকে ভেবেছিল তার সাড়াটা ঠিক ক্রোধের নয়, বরং জ্বালার, ব্যথার।‘—কেন এরূপ ভেবেছিল?
Ans- মানুষের কৌতূহল নিষ্ঠুরতার পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় তারা বুড়ো ‘দেবদূতের’ ডানায় তপ্ত লোহার ছ্যাঁকা দিয়েছিল, যার প্রতিক্রিয়ায় দেবদূতের অস্থিরতা কারো কারো কাছে জ্বালার ও ব্যথার মনে হয়েছিল।
64. ‘রোম থেকে আসা চিঠিতে কোনো তাড়াই দেখা গেল না’—রোম থেকে কী চিঠি আসার কথা ছিল?
Ans- পাদ্রে গোনসাগার চিঠির প্রত্যুত্তরে রোম থেকে পেলাইওর বাড়িতে চিঠির মাধ্যমে বন্দি দেবদূতের জন্য সর্বাধিনায়কের চূড়ান্ত রায় আসার কথা ছিল।
65. ‘তারা তাদের সময় কাটিয়ে দিলে এই সব প্রশ্নে’—প্রশ্নগুলো কী ছিল?
Ans- চূড়ান্ত রায়ের পরিবর্তে রোম থেকে আসা চিঠিগুলোতে বন্দির সম্পর্কে অবান্তর কিছু প্রশ্ন ছিল। তাতে বলা হয়েছিল যে, বন্দির কোনো নাভি আছে কি না, তার কথাবার্তার সঙ্গে সিরিয়ার প্রাচীন ভাষার সম্পর্ক আছে কি না, একটা ছুঁচের ডগায় তার মতো ক-টা মাথা এঁটে যায় অথবা সে নরওয়ের কোনো লোক কি না।
66. ‘পাদ্রে গোনসাগার সব নাজেহাল বিপত্তির একটা ইতি টেনে দিত’—কোন ঘটনায় তার সব নাজেহাল বিপত্তির ইতি ঘটল?
Ans- পেলাইওদের অঞ্চলে ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীতে ভয়ানক আকৃতি মাকড়সা-কন্যার আগমনের ঘটনায় পাদ্রে গোনসাগার নাজেহাল বিপত্তির ইতি ঘটল।
67. ‘যাতে তার এই বিভীষিকার সত্য-মিথ্যা সম্বন্ধে কারু মনেই কোনো সন্দেহ না থাকে’— কার, কী বিভীষিকার কথা বলা হয়েছে এখানে?
Ans- ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর মাকড়সা-মেয়েটির দৈহিক আকৃতি বীভৎস। ভয়ংকর তরানতুলার মতো বড়ো শরীরের উপর মাথাটা কুমারী মেয়ের। এই বিভীষিকার কথা এখানে বলা হয়েছে।
68. ‘একটা মস্ত ভেড়ার মত বড়ো, আর তার মাথাটা এক বিষাদময়ী কুমারী মেয়ের’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
Ans- আলোচ্য অংশে পেলাইওদের অঞ্চলে উপস্থিত ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর বীভৎস আকৃতির মাকড়সা-কন্যাটির কথা বলা হয়েছে।
69. ‘যা ছিল সবচেয়ে হৃদয়-বিদারক’—কী সবচেয়ে হৃদয়-বিদারক ছিল?
Ans- ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর মাকড়সা কন্যাটির চেহারা বীভৎস হলেও তার অকৃতিম বেদনার্ত করুণ কণ্ঠস্বর ছিল সবচেয়ে হৃদয়-বিদারক।
70. ‘সে তার দুর্ভাগ্যের সব খুঁটিনাটি বর্ণনা করত’—'সব খুঁটিনাটি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
Ans- প্রদর্শনীতে জমায়েত দর্শকদের সামনে মেয়েটি করুন বেদনার্ত কন্ঠে শুনিয়েছিল, কেমন করে তার শরীর মাকড়সায় পরিণত হয়েছে। একেই ‘খুঁটিনাটি’ বলা হয়েছে।
71. মেয়েটি কীভাবে আজব মাকড়সায় বদলে গিয়েছিল?
Ans- মেয়েটি মা-বাবার অনুমতি না নিয়ে নাচের আসরে গিয়েছিল। সারারাত নাচের পর বনপথ দিয়ে ফেরার সময় বজ্রপাতের ফলে আকাশে ফাটলের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসা জ্বলন্ত গন্ধকময় বিদ্যুৎশিখা মেয়েটিকে মাকড়সায় পরিণত করেছিল।
72. ‘একমাত্র তাই তাকে অ্যাদ্দিন ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে’—কী, কাকে বাঁচিয়ে রেখেছে?
Ans- ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর মাকড়সা মেয়েটির দিকে দয়ালু মানুষদের ছুঁড়ে দেওয়া মাংসের বড়াই তাকে এতদিন বাঁচিয়ে রেখেছে।
73. ‘এ-রকম এক দৃশ্য’—এখানে কোন দৃশ্যের কথা আছে?
Ans- প্রদর্শনীর মাকড়সা মেয়েটির বীভৎস আকৃতি ও অকৃত্রিম করুন কন্ঠে দুঃখের বিবরণ দেওয়ার যে দৃশ্য, এখানের তার কথা বলা হয়েছে।
74. ‘এমন-এক ভয়ংকর শিক্ষা আছে’ — ভয়ংকর শিক্ষাটি কী?
Ans- মা-বাবার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করলে বা তাদের কথার অবাধ্য হলে, তার পরিণতি কখনও ভালো হয় না। আলোচ্য অংশে মেয়েটির মাকড়সায় রূপান্তরিত হওয়ার ঘটনাই ‘ভয়ংকর শিক্ষা’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে।
75. ‘যে তা চেষ্টা না-করেও হারিয়ে দিতে পারে কোনো উদ্ধত দেবদূতের প্রদর্শনী’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
Ans- উদ্ধৃতাংশে ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর ভয়ংকর দৈহিক আকৃতি এবং অদ্ভুত অকৃত্রিম করুন কণ্ঠস্বরের অধিকারিনী মাকড়সা-মেয়েটির কথা বলা হয়েছে।
76. কোন ঘটনা দেবদূতের মানসম্ভ্রম খ্যাতি ধুলোয় লুটিয়ে দিয়েছিল?
Ans- ভ্রাম্যমান প্রদর্শনীর মাকড়সা-মেয়েটির অকৃতিম অভিনবত্বের বিপরীতে ‘দেবদূত’ প্রতিপন্ন হওয়া বুড়োর স্থবিরতা তার মানসম্ভ্রম খ্যাতি ধুলোয় লুটিয়ে দিয়েছিল।
77. ‘এইভাবেই পাদ্রে গোনসাগা তাঁর অনিদ্রা রোগ থেকে চিরকালের মতো রেহাই পেয়ে গেলেন...’—এর কারণ কী?
Ans- মাকড়সা-মেয়েটির আবির্ভাবে কৌতূহলী জনতা দেবদূতের একঘেয়ে আচরণে বিরক্ত হয়ে প্রদর্শনীতে ভিড় জমালে পাদ্রে গোনসাগার দুশ্চিন্তা এবং আত্মগরিমা ম্লান হওয়ার ভয় কেটে যায় এবং তিনি অনিদ্রা রোগ থেকে রেহাই পেলেন।
78. ‘বাড়ির মালিকদের অবশ্য বিলাপ করার কোনোই কারণ ছিল না’—বাড়ির মালিকদের নাম কী?
Ans- আলোচ্য গল্পের অন্তর্গত উদ্ধৃত অংশটিতে ‘মালিক’ বলতে পেলাইও এবং তার স্ত্রী এলিসেন্দাকে বোঝানো হয়েছে?
79. শহরের কাছে পেলাইও কী বানিয়ে নিয়েছিল?
Ans- শহরের কাছে পেলাইও বানিয়ে নিয়েছিল খরগোশ পালন করার ঘিঞ্জি গোলকধাঁধা।
80. পেলাইও সাধ্যপালের কাজে ইস্তফা দিয়েছিল কেন?
Ans- পেলাইও ডানাওয়ালা বুড়োকে দর্শকদের দেখিয়ে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিল, তাতে তার অন্য রোজগারের প্রয়োজন ছিল না বলে সে সাধ্যপালের কাজে ইস্তফা দিয়েছিল।
81. ‘গোড়ায়, যখন তাদের বাচ্চা হাঁটতে শিখল’— তখন পেলাইও এবং এলিসেন্দা কোন বিষয়ে সাবধান ছিল?
Ans- পেলাইও আর এলিসেন্দার বাচ্চাটি হাঁটতে শিখলে তারা সতর্ক ছিল যাতে ‘দেবদূত’ যে মুরগির খাঁচায় থাকত, তার ধারেকাছে বাচ্চাটি না যায়।
82. বাচ্চার দ্বিতীয় দাঁত বেরোনোর আগে কোন ঘটনা ঘটেছিল?
Ans- পেলাইও এলিসেন্দার বাচ্চাটির দ্বিতীয় দাঁত বেরোবার আগেই সে অযত্নে অবহেলায় তার ছিঁড়ে যাওয়া মুরগির খাঁচার ভেতর খেলতে যেতে শুরু করেছিল।
83. অন্য কোনো মর্ত্যবাসীর সঙ্গে দেবদূত কীভাবে মাখামাখি করত?
Ans- অন্য কোনো মর্ত্যবাসীর সঙ্গে দেবদূত আগে কখনও মাখামাখি করেনি, বরং দূরে দূরেই থাকত। তাই বাচ্চাটির উপস্থিতিতেও বুড়োর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসল না।
84. বাচ্চাটাকে দেবদূত কীভাবে মেনে নিয়েছিল?
Ans- পেলাইও আর এলিসেন্দার বাচ্চাটির যাবতীয় অত্যাচার বুড়ো দেবদূত তার অতিপ্রাকৃত সহনশীলতায় সহ্য করত।
85. “একই সঙ্গে দুজনকে পেড়ে ফেলল জলবসন্ত”—এখানে দুজন কারা?
Ans- প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে পেলাইও এবং এলিসেন্দার শিশু ও তাদের বাড়িতে আশ্রিত দেবদূত, বিশাল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়ো একসঙ্গে জলবসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
86. ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুড়ে বুড়ো’ গল্পে ডাক্তারের কী মনে হয়েছিল?
Ans- পেলাইও আর এলিসেন্দার বাচ্চাকে দেখতে আসা কৌতূহলী ডাক্তার ডানাওয়ালা বুড়ো তথা দেবদূতের হৃৎপিন্ডের স্পন্দন শুনে মনে করেছিল বুড়োর বেঁচে থাকাই অসম্ভব।
87. ‘বিশাল ডানাওয়ালা এক থুরথুরে বুড়ো’ গল্পে ডাক্তার অবাক হয়েছিল কেন?
Ans- বুড়ো দেবদূতের ডানা দুটো ডাক্তারের কাছে এতটাই বিশ্বাস্য, অকৃত্রিম এবং যুক্তিগ্রাহ্য ছিল যে, অন্যসব মানুষদের ডানা নেই কেন এই ভেবে সে অবাক হয়েছিল।
88. পেলাইও এবং এলিসেন্দার বাচ্চা কখন স্কুলে যাওয়া শুরু করল?
Ans- রোদে-বৃষ্টিতে মুরগির খাঁচা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার কিছুকাল পর পেলাইও এবং এলিসেন্দার বাচ্চা স্কুলে যাওয়া শুরু করল।
89. ‘দেবদূত এখন এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায়’—এর কারণ কী?
Ans- দেবদূতের জন্য নির্দিষ্ট ‘বাসস্থান’ মুরগির খাঁচাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে যাওয়ার পর সে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। এই কারণে বুড়ো দেবদূত এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়ায়।
90. ‘সে জিনিসপত্তরে ধাক্কা খায়’— কে, কেন জিনিসপত্রে ধাক্কা খায়?
Ans- দেবদূতের প্রত্নপ্রাচীন ঘোলাটে চোখের দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত ক্ষীন হয়ে যাওয়ার কারণে সে জিনিসপত্তরে ধাক্কা খায়।
91. ‘যে কয়েকবার তারা বিষম ভয় পেয়ে গিয়েছিল’— কোন বিষয়ে তারা বিষম ভয় পেয়ে গিয়েছিল?
Ans- অসুস্থ দেবদূতের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে পেলাইও এবং এলিসেন্দা তার মরে যাওয়ার কথা ভেবে বিষম ভয় পেয়েছিল।
92. ‘সে ক্রমেই সেরে উঠেছে’— কার সেরে ওঠার কথা এখানে বলা হয়েছে?
Ans- শীতের পর প্রথম রোদ্দুরে ভরা দিনগুলোয় তরতাজা হয়ে ওঠা ডানাওয়ালা বুড়ো দেবদূতের কথা উদ্ধৃতাংশে বলা হয়েছে।
93. বিশাল ডানাওয়ালা থুরথুরে বুড়োটির ডানায় কখন মস্ত কতকগুলো পালক গজিয়েছিল?
Ans- শীতের শীতলতা পার করে ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে বুড়ো দেবদূতের ডানায় মস্ত কয়েকটা পালক গজিয়েছিল, যা ছিল আশ্চর্যজনক।
94. থুরথুরে বুড়োর নতুন গজানো পালকগুলোকে কী বলে মনে হত?
Ans- ডিসেম্বরের গোড়ায় থুরথুরে বুড়োর ডানায় গজানো কয়েকটা নতুন পালক এতই বিসদৃশ ছিল যে, তাকে কাকতাড়ুয়ার মতো দেখাত।
95. ‘সে খুবই সজাগ ছিল।‘—কে, কোন বিষয়ে খুবই সজাগ ছিল?
Ans- থুরথুরে বুড়ো ‘দেবদূত’ তার নতুন গজানো পালকগুলিকে কৌতুহলী মানুষজনের চোখের আড়ালে রাখার ব্যাপারে সজাগ ছিল।
96. ‘সে খুবই সাবধান ছিল’—সে কোন বিষয়ে খুবই সাবধান ছিল?
Ans- তারায় ভরা আকাশের নীচে আপনমনে গুনগুন করে বুড়ো দেবদূত সবার কান বাঁচিয়ে সিন্ধুরোলের গান গাইত। এই গান যাতে কেউ শুনতে না পায়, সে বিষয়ে বুড়ো সাবধান ছিল।
97. ‘একদিন সকালে এলিসেন্দা যখন পেঁয়াজকলির গুচ্ছ কাটছে’—তখন তার কী মনে হয়েছিল?
Ans- রান্নাঘরে পেঁয়াজকলির গুচ্ছ কাটার সময় এলিসেন্দার মনে হয়েছিল বারদরিয়ার দমকা জোলো বাতাস যেন তাকে ছুঁয়ে গেল।
98. “একদিন সকালে এলিসেন্দা যখন পেঁয়াজকলির গুচ্ছ কাটছে তখন আচমকা মনে হল হঠাৎ যেন দূর বারদরিয়ার এক ঝলক হাওয়া এসে ঢুকেছে রান্নাঘরে”—এর কারণ কী?
Ans- ডানা ছড়িয়ে বুড়ো দেবদূতের ওড়ার চেষ্টা করা দেখে, এলিসেন্দার মনে হয়েছিল আচমকা বারদরিয়ার দমকা বাতাস রান্নাঘরে ঢুকেছে।
99. দেবদূত নখ দিয়ে কোথায় গভীর খাঁজ কেটে দিচ্ছে?
Ans- ডানা মেলে আকাশে ওড়ার বারংবার চেষ্টা করতে করতে বুড়ো দেবদূতের নখগুলি এলিসেন্দাদের সবজি বাগানে খাঁজ কেটে দিচ্ছে।
100. ‘এলিসেন্দা একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললে’—কখন এলিসেন্দা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল?
Ans- অক্লান্ত প্রয়াসের পর বুড়ো দেবদূত যখন সত্যিই শেষ বাড়িগুলোর উপর দিয়ে উড়ে অনন্ত আকাশে পৌঁছে গেল, তা দেখে এলিসেন্দা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
101. দেবদূতের উড়ে যাওয়াকে এলিসেন্দার কী বলে মনে হল?
Ans- বুড়ো দেবদূতের উড়ে যাওয়াকে হতভম্ব এলিসেন্দার জরাগ্রস্ত, নির্বোধ শকুনির ঝুঁকিতে ভরা ডানা ঝাপটানি বলে মনে হল।
102. ‘দেখতেই থাকে যখন তাকে আর দেখাই সম্ভব ছিল না’—দেবদূতকে শেষে কী বলে মনে হয়?
Ans- মুক্ত আকাশে উড়ন্ত দেবদূতকে দেখে এলিসেন্দার মনে হয় তা যেন শেষে সমুদ্রের দিকচক্রবালে নিছকই অবিশ্বাস্য কাল্পনিক একটা ফুটকি। এর ফলে এতদিনের বাস্তবতা মুছে যায়।

Post a Comment